সোমবার
০১ জুন ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাস্তায় নেই গাড়ির হর্ন, নেই যানজটের কোলাহল। যেখানে সাধারণত সড়ক থাকার কথা, সেখানে প্রবাহিত হচ্ছে জলপথ। এমনই অনন্য বৈশিষ্ট্যের শহর হলো ভেনিস, যা বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ও ঐতিহাসিক নগরী হিসেবে পরিচিত।
ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর সংলগ্ন একটি উপহ্রদে অবস্থিত ভেনিস ১১৮টি ছোট ছোট দ্বীপের ওপর গড়ে উঠেছে। এসব দ্বীপকে যুক্ত করেছে ৪০০টিরও বেশি সেতু। শহরের বিভিন্ন খালই এখানে প্রধান যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ঐতিহাসিকভাবে বহিরাগত আক্রমণ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ মূল ভূখণ্ড ছেড়ে এই লেগুন অঞ্চলে বসতি স্থাপন শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভেনিস বাণিজ্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
ভেনিসের সবচেয়ে পরিচিত জলপথ হলো গ্র্যান্ড ক্যানাল। এই খালের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ভবন, প্রাসাদ ও গির্জা শহরটির সৌন্দর্যকে আরও অনন্য করে তুলেছে।
স্থানীয়দের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ‘ভাপোরেত্তো’ বা ওয়াটার বাস এবং ওয়াটার ট্যাক্সি। অন্যদিকে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হলো ঐতিহ্যবাহী গন্ডোলা নৌকায় চড়ে সরু খালগুলো ঘুরে দেখা।
ভেনিস শুধু তার জলপথনির্ভর জীবনযাত্রার জন্যই নয়, বরং শিল্পকলা ও স্থাপত্যের জন্যও বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। শহরটির উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে সেন্ট মার্কস ব্যাসিলিকা, রিয়ালতো ব্রিজ এবং ডোজেস প্যালেস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনিস ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকে এবং পর্যটকরাও শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে।
শত বছরের পুরোনো কাঠের ভিত্তি, ১১৮টি দ্বীপ, শত শত সেতু এবং জলপথনির্ভর জীবনধারা—সব মিলিয়ে ভেনিস আজও বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও মোহনীয় শহরগুলোর অন্যতম।