বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬
৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিজস্ব প্রতিবেদক: চাহিদা হ্রাস, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, উচ্চ সুদের হার, করনীতির চাপ এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের সিমেন্ট শিল্প বর্তমানে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) প্রেসিডেন্ট ও চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সিমেন্টের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আবাসন, অ্যাপার্টমেন্ট এবং শিল্প ভবন নির্মাণ খাতেও স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় বাজারে সিমেন্টের ব্যবহার কমে গেছে।
তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর এ শিল্পে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে ক্লিংকার, স্ল্যাগ, চুনাপাথর, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্যও বেড়েছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমিরুল হক আরও বলেন, জ্বালানি ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার উৎপাদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে, যা শিল্পের লাভজনকতা ও নগদ প্রবাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি বিদ্যমান কর ও শুল্ক কাঠামোকে শিল্পবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ২-৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং বিক্রয় পর্যায়ে ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হলে শিল্পখাত উপকৃত হবে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্য ১৬ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সিমেন্ট শিল্পের ব্যয় আরও বাড়াবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সিমেন্ট শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির স্বার্থে সরকারের কাছে দ্রুত নীতিগত সহায়তা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিসিএমএ সভাপতি।