বুধবার
১০ জুন ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে জাতীয় সংসদে চলমান বিতর্কের মধ্যে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ব্যাংকটি দখলের সময় যে পদ্ধতি ও যাতনার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, এখন বেদখলের সময় একই ধরনের অনুভূতি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার আনা নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হলেও সেই অর্থ ফেরত আসেনি। নাবিল গ্রুপের প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দায়ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম ভেঙে প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ৬ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ হাজার কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক পদোন্নতি দেওয়া এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অর্থ ব্যক্তিগত ব্যয়ে ব্যবহারের অভিযোগও তদন্ত করা হবে।
ব্যাংকটির মালিকানা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ৮১ শতাংশ শেয়ার বর্তমানে একটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সব শেয়ারহোল্ডারের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হবে এবং বৈধ মালিকদের কাছে শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ পাচারের অভিযোগসহ বিদেশে অর্থ পাচারের প্রতিটি ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং কোনো তদন্তও চলমান নেই। তবে নতুন অভিযোগ এলে তা অবশ্যই তদন্ত করা হবে।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।