রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার

১৪ জুন ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

‘অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, আইনের ঊর্ধ্বে নয়’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশের ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হব। একই সঙ্গে জাতিকে এই বার্তা দিতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি জানান, গত ১২ জুন বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই নোটিশের ভিত্তিতে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়।

গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবহিত করা হয় বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) অনুরোধ পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন করবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদরদপ্তরের এনসিবি শাখা আবুধাবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “অতি দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন।

২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেনজীর আহমেদের নামও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। পরে তিনি দেশত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।