সোমবার
১৫ জুন ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির অগ্রগতির খবরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিচুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার পর সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় ধরনের পতন দেখা যায়। গত মার্চের পর একদিনে এটিই তেলের দামের সবচেয়ে বড় হ্রাস বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৫৮ সেন্ট বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৮৩ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ ডলার ১ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮০ ডলার ৮৭ সেন্টে। এর আগে শুক্রবারও তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে টোলমুক্ত থাকবে এবং ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকায় তেল ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথ পুনরায় চালু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং উৎপাদন স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।