সোমবার
২২ জুন ২০২৬
৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিতকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান যুদ্ধের পথেও যেতে প্রস্তুত।
শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, সেদিনই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব।”
তিনি দাবি করেন, ভারত যদি পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ ব্যাহত করার কোনো পদক্ষেপ নেয় এবং ইসলামাবাদ তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
গত এপ্রিল মাসে ভারতের পাহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার প্রায় ৮০ শতাংশ পানির ব্যবহারিক অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সেচ অবকাঠামোর সংকট কৃষি খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
খাজা আসিফ অভিযোগ করেন, ভারত পানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং চেনাব নদীর প্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন রাখছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, গত এক বছরে ভারতের জলপ্রকল্পে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে পাকিস্তানের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
এদিকে পাকিস্তানের সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে তীব্র পানিসংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির সেচ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম খালে ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, রাইস খালে ৩৮ শতাংশ এবং দাদু খালে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পানির ঘাটতি রয়েছে। সুক্কুর ব্যারাজেও পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত উত্তেজনার পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার সংকটও বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।