বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

রবিবার

২৮ জুন ২০২৬

২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে নতুন ইতিহাস, মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। ছয় মাস পর খোলা ১৩টি দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়া মিলেছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।

শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ টাকা গণনা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলোর তালা খোলা হয়। এরপর ৪৩টি বড় বস্তায় ভরা অর্থ মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ধরে গণনা করা হয়।

টাকা গণনার কাজে অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১০৬ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, মসজিদের ৩৫ জন কর্মচারী এবং জেলা প্রশাসনের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসনের ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‍্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলনই এই বিপুল দান। মানুষের দেওয়া অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও রুপা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, এই তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত কোনো কাজে ব্যবহার করা হয় না। জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ে এ অর্থ ব্যয় করা হয়।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে পাগলা মসজিদের দানবাক্স।