বৃহস্পতিবার
০২ জুলাই ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: সারাদেশে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে।
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।
পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উত্তরপত্রও একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো একাধিক কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা হবে।
সারা দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টি ঢাকা মহানগরে। পরীক্ষা পরিচালনায় ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ সিসিটিভি মনিটরিং সেল, যেখান থেকে অনলাইনে দেশের সব কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষপরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো কক্ষে দুইজনের কম কক্ষপরিদর্শক রাখা যাবে না। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), যাতে পরীক্ষার পরিবেশ নির্বিঘ্ন থাকে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। এরপরও যদি কোনোভাবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রয়োজন হলে সারা দেশের ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন তারিখে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি বা যে কোনো অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি সংস্কৃতি, ক্রীড়া, নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং কর্মদক্ষতা সমান গুরুত্ব পাবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।