মঙ্গলবার
০৭ জুলাই ২০২৬
৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


সাফায়েত মেহেদী, মিরসরাই: টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ৫ শতাধিক বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, আর্থিক সংকটে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানি বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে। এতে ওয়াহেদপুর, পোলমোগরা, সৈদালী, ইছাখালীসহ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টির ও পাহাড়ি ঢলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং শত শত মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
একই ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম রুবেল বলেন, আগে থেকেই ভাঙাচোরা সড়কগুলো টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আরও চলাচল-অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, রিকশা-ভ্যানচালক, সিএনজি চালক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রিকশাচালক ফকির আহম্মদ বলেন, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে যাত্রী কমে গেছে। পেটের দায়ে বের হলেও তেমন ভাড়া মিলছে না।
মিঠাছড়া বাজারের ভ্যানচালক আলী মিয়া বলেন, তিন দিন ঘরে বসে ছিলাম। ঘরে চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ বের হয়েছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কোনো ভাড়া পাচ্ছি না।
শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তারা।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, টানা বৃষ্টিতে আউশ ধানের কিছু চারা পানিতে ডুবে গেছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী চার থেকে পাঁচ দিন আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কোথাও কেউ পানিবন্দি হলে তালিকা পাঠানোর ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।