বুধবার
০৮ জুলাই ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এ সুযোগে কয়েকটি রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার ভাড়া স্বাভাবিকের দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর আগ্রাবাদ, হালিশহর, বহদ্দারহাট, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, বাদামতলী, পতেঙ্গা, চকবাজার ও সিটি গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে যে পথে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, সেখানে জলাবদ্ধতার কারণে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। একইভাবে চকবাজার থেকে কাতালগঞ্জ রুটে ২০ টাকার রিকশা ভাড়া বেড়ে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোস্তফা মাহমুদ বলেন, প্রতিদিন অফিসে যেতে ২৫০-৩০০ টাকা ভাড়া লাগে। কিন্তু আজ ৬০০-৭০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে ৫৫০ টাকা ভাড়ায় যেতে হয়েছে।
চকবাজারের বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার জানান, সন্তানের স্কুলে যাওয়ার জন্য স্বাভাবিকের প্রায় তিন গুণ ভাড়া দিতে হয়েছে। ১২০ টাকার পরিবর্তে গুনতে হয়েছে ২৫০ টাকা।
অন্যদিকে কয়েকজন চালকের দাবি, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং একটি ট্রিপ সম্পন্ন করতেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে। এসব কারণেই ভাড়া কিছুটা বাড়াতে হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ছিল ২৬৭ মিলিমিটার। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় খাল, নালা ও ড্রেন পরিষ্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।