বুধবার
০৮ জুলাই ২০২৬
৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে পৃথক দুই স্থানে পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর এবং নগরীর পাঁচলাইশ থানার চশমা হিল এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর ছিন্নমূল এলাকায় পাহাড়ধসে নিহত শিশুর নাম আশরাফুল ইসলাম (১০ মাস)। সে ওই এলাকার মঈনউদ্দিনের ছেলে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন ধরেই পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছিল। কিন্তু পরিবারটি সেখানে অবস্থান করছিল। বুধবার সকালে টানা বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের মাটি ধসে তাদের ঘরের ওপর পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, নিহত শিশুর দাফনের জন্য পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা এবং শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নগরীর পাঁচলাইশ থানার চশমা হিল ২ নম্বর গলির বাবু কলোনিতে পাহাড়ধসে সামিয়া (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল সালেহীন জানান, পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ছয়টি ঘরের মধ্যে দুটি ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে ৩ নম্বর ঘরে থাকা সামিয়া চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এদিকে টানা চতুর্থ দিনের মতো ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা অব্যাহত রয়েছে। এতে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছিল চট্টগ্রামে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারও পাহাড়ধস ও দেয়ালধসের পৃথক ঘটনায় রাঙ্গুনিয়ায় রেনু আক্তার (৫৫) নামে এক নারী এবং নগরীর রহমান নগর এলাকায় শফিকুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।