বৃহস্পতিবার
০৯ জুলাই ২০২৬
৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: দেশের সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে প্রতিটি নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শিশুর জন্ম যেমন একটি পরিবারের আনন্দের উপলক্ষ, তেমনি সেই শিশুর নামে একটি গাছ রোপণ করলে শিশুর পাশাপাশি গাছটিও বড় হয়ে উঠবে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ছোটবেলায় ঢাকা শহরকে অনেক বেশি সবুজ দেখা যেত। সময়ের সঙ্গে সেই সবুজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তাই বৃক্ষরোপণকে কেবল বার্ষিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যে বসবাসের সময়ের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক প্রতিবেশী তার তিন সন্তানের জন্মের সময় তিনটি গোলাপ গাছ লাগিয়েছিলেন। পরে গাছগুলো তিনতলা ভবনের সমান বড় হয়ে ওঠে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দেশে ফিরে এমন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানোর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্কুলে একযোগে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে শুধু সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে এলাকার মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে উপযোগী দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি, বাঁশ ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, গাছ যেন নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বনভূমি এমন হতে হবে, যেখানে পশুপাখি, কীটপতঙ্গসহ সব জীববৈচিত্র্যের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল”—এই লক্ষ্য নিয়েই সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।