রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুক্রবার

১০ জুলাই ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই—চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের আহাজারি

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: টানা কয়েক দিনের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামজুড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যা

মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে সাতকানিয়া। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। অসংখ্য বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা ও থানাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাও পানিতে তলিয়ে গেছে।

বাঁশখালীতে ভেঙেছে শত শত ঘর

বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার রাতে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে গেলেও অসংখ্য মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারে অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে, রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ খাবারের জন্য চরম কষ্টে রয়েছে।

নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডলু নদীর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে এবং অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে।

চন্দনাইশেও চরম দুর্ভোগ

চন্দনাইশ উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট পানি প্রবাহিত হওয়ায় দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু নাসের আলিফ বলেন, “দিন দিন বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তা পাঠানো হবে।