বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

১৫ জুলাই ২০২৬

৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসির দাবি, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত থেকে বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল পর্যন্ত বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ও মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো জবাব’ বলে উল্লেখ করেছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, নৌ সহায়তা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সামরিক গুদাম এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার স্থাপনা ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরান ‘সায়েকেহ’ অভিযানের অষ্টম ধাপ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিও জানিয়েছে, আল-আজরাক ও মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জর্ডান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

আইআরজিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের স্থল, আকাশ বা সমুদ্রসীমায় যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

এদিকে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম দেশটির অন্তত সাতটি স্থানে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে।

জর্ডানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইআরজিসি বলেছে, তাদের দেশের ভূখণ্ড যেন অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার না হয়।

অন্যদিকে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে নতুন দফার সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।

এ ছাড়া ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সেন্টকম।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।