বুধবার
১৫ জুলাই ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান ঠেকাতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক বিচারব্যবস্থার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ আন্তঃদেশীয় এ দুই ধরনের গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। পাশাপাশি তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিধান এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে এই জাতীয় অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, এর প্রধান বিধান এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এতে বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), এনএসআই, বিচার বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।