শুক্রবার
১৭ জুলাই ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


শাহরিয়ার মুনির জিসান: কাস্টমস সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদের চালান খালাসের চেষ্টার ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ।
তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় শেখ সেজান (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সংঘবদ্ধ চক্রটি চীন থেকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অন্তত ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ এবং পৃথক ঘটনায় ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানির চেষ্টা করে। এতে সরকারের প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন ASYCUDA World System-এ অবৈধভাবে প্রবেশ করে কাস্টমস কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করে।
গ্রেফতার সেজান তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং কাস্টমস ও সিপিএ পোর্টালের নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যের ইউজার আইডি ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সেজান এর আগেও সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবায় জালিয়াতির অভিযোগে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার সাতটি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, এ ঘটনায় এর আগে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।