বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সোমবার

২০ জুলাই ২০২৬

১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, খুলে দেওয়া হলো ৪৪ জলকপাট

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: উজানের ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিতে আবারও তিস্তা নদীর পানি বেড়ে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল ৫২ দশমিক ১০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।

পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পানির উচ্চতা একই অবস্থানে ছিল।

পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। উজান থেকে আরও পানি নামলে নদীর পানি বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এর আগে ১৩ জুলাই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

সেই বন্যার পানি পুরোপুরি না নামতেই নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে এখনও অনেক কৃষিজমি ও বীজতলা পানির নিচে রয়েছে। ফলে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করতে পারছেন না কৃষকরা।

ডিমলা উপজেলার বাইশপুকুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, পানি নেমে গেলেই দ্রুত চারা রোপণের কাজ শেষ করবেন। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কিছু জমি নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, শ্রমিক পাওয়া গেলেও জমিতে অতিরিক্ত কাদা ও পানি থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। এতে সময়ের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।

চরখাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, বীজতলায় চারা ভালো হলেও জমিতে পানি থাকায় রোপণ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগস্ট পর্যন্ত সময় থাকায় এর মধ্যে পানি কমে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।