বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শনিবার

২৫ জুলাই ২০২৬

৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: দীর্ঘদিনের আন্দোলন, রাজনৈতিক চাপ এবং নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের পর রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।

নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনোভাবেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।

সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দুই দফা বৈঠক হলেও সমাধান আসেনি। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার বৈঠকের কথা থাকলেও তার আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান। সরকারের পক্ষ থেকে শেষের দুটি দাবি মেনে নেওয়া হলেও প্রথম দাবি নিয়ে অনড় ছিল আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত সেই দাবিও পূরণ হলো।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। চার দশক ধরে তিনি শিক্ষা, ছাত্র ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে আসছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের তরুণদের স্বপ্ন ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি তিনি সবসময় শ্রদ্ধাশীল।

তিনি আরও বলেন, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছিলেন এবং কখনো দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি। দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ধর্মেন্দ্র জানান, ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর স্বার্থে সরকার পুনরায় নিট পরীক্ষা আয়োজন করে এবং ১৬ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল কিছু ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মন্ত্রিসভার সহকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের সেবাই তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতেও দেশের যুবসমাজ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।

উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি সম্প্রতি অনশন ভাঙলেও আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি পূরণ হওয়ার পরই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।