সোমবার
২৭ জুলাই ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: দেশে চলমান গ্যাস সংকট আগামী সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকটে বাসাবাড়ির রান্না থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার উৎপাদন পর্যন্ত ব্যাহত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির জন্য সরকার আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, এটি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটির কারণে হয়নি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ থেকে দৈনিক ৫০০-৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরিবর্তে আগামী সপ্তাহ থেকে প্রায় ২৮০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। পরের সপ্তাহে সরবরাহ শতভাগ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।
তিনি আরও জানান, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ এনে মেরামত কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে এবং দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্র দিয়ে তা স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ব্যবহার ও মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর গ্যাস ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরে বিড জমা দেওয়ার শেষ সময়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।