বুধবার
২৯ জুলাই ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক তথ্য। পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই ক্ষতিকর এই প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
‘বাংলাদেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ: বৈশিষ্ট্য নিরূপণ, খাদ্যগ্রহণজনিত সংস্পর্শ এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যবিপ্রবির গবেষক সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে একদল গবেষক। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে এটি সম্পন্ন হয়। গবেষকদের দাবি, দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং মানবদেহে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম বিস্তৃত গবেষণা।
গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১৭টি কাঁচা দুধ, ১২টি ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং ১২টি বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য। মাইক্রোস্কোপ ও এফটিআইআর (FTIR) প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষায় সব নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, খোলা বা কাঁচা দুধের তুলনায় প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ মিলিলিটার ব্র্যান্ডের দুধে গড়ে ১৫৬ দশমিক ৬টি, কাঁচা দুধে ৯৩ দশমিক ৩৯টি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে ৭০ দশমিক ৮০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং কারখানার যন্ত্রপাতি, পাইপলাইন ও প্লাস্টিকের পাত্রের সংস্পর্শে এসে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা দুধে মিশতে পারে।
পরীক্ষায় পাওয়া অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল স্বচ্ছ, আঁশের মতো এবং আকারে ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। কাঁচা দুধে ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ব্র্যান্ডের দুধে ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ কণাই ছিল আঁশ আকৃতির। এছাড়া নমুনাগুলোতে টেফলন (পিটিএফই), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস ও পলিস্টাইরিনের মতো বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ তাদের শরীরের ওজন তুলনামূলক কম এবং দুধের ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্ভাবনাও বেশি।
এ পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুগ্ধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করা এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন গবেষকরা। পাশাপাশি দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও কঠোর নজরদারিরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।