শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার

০৮ আগস্ট ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

'প্রকৃত সত্যটাই আসুক'—জাদুঘর নিয়ে নাহিদ ইসলামের আহ্বান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: জুলাই স্মৃতি জাদুঘর যেন কোনো দলের ইতিহাস চর্চার জায়গা না হয়, বরং জাতীয় ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার পর জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা যেন দলীয় ইতিহাস চর্চার জায়গা না হয়, জাতীয় ইতিহাস চর্চার জায়গা হয়। প্রকৃত সত্যটাই যেন এখানে আসে এবং সবাই যেন সেটি ধারণ করতে পারে।’

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভবন থেকে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন। মানুষকে লুটপাট ও অর্থনৈতিকভাবে শোষণের নানা সিদ্ধান্তও এখান থেকেই নেওয়া হতো। সেই গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

তিনি জানান, জাদুঘরটি খুলে দেওয়ার জন্য তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। এর আগে তিনি নিজেও জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছিলেন।

জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনীর বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখানে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও সীমান্তে নিহতদের স্মৃতি এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ ছিল, এর সঙ্গে ভারত জড়িত ছিল। ভারতকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্পর্ক ভালো বা খারাপ—এটি মূল বিষয় নয়; ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ।

জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, টাইমলাইন ধরে বিভিন্ন জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানও জাদুঘরে তুলে ধরা উচিত।

তিনি আরও বলেন, জাদুঘরে কেন্দ্রীয় ও পরিচিত মুখগুলো বারবার এসেছে। বিষয়টি জাদুঘরের দায়িত্বশীলদের জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জাদুঘরে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা সংসদে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান করার কথা বলেছিলেন। যারা জুলাই স্পিরিট ধারণ করেন, এমন ব্যক্তিদের দিয়েই এই জাদুঘর পরিচালনা করা উচিত।

এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।