শনিবার
১৫ আগস্ট ২০২৬
৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে তিনজনকে মারধর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ‘
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ) নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব পরিচয় দেওয়া আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা একদল জনতা এই মারধরে জড়িত ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে এক রিকশাচালক মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করার সময় আয়াস তার কাছে গিয়ে ফোন পরীক্ষা করেন এবং ভিডিওটি যুবলীগের কাউকে পাঠানোর অভিযোগ তোলেন। এ সময় আয়াসের সঙ্গীরা রিকশাচালককে মারধর করেন, পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফুল দিতে আসা অর্ণব দাস নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা অর্ণব দাস কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া রিকশাচালককে মারধরের সময় উপস্থিত আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে তাকেও মারধর করা হয়, পরে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে আরেক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়, তিনিও পরে দৌড়ে পালিয়ে যান।
আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো অপতৎপরতা করতে না পারে, সে জন্য তারা অবস্থান করছেন এবং কাউকে পেলে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
মব সৃষ্টি করে মারধরের অভিযোগের জবাবে তিনি দাবি করেন, তারা মব সৃষ্টি করছেন না, শুধু আওয়ামী লীগ-যুবলীগের কাউকে পেলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
ডিএমপির ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভোর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাঙা বাড়ির সামনে সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যানও।