শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার

২৩ আগস্ট ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

গরমে ১৮ ঘণ্টা অন্ধকারে বোয়ালখালী, ট্রান্সফরমার মেরামতে লাগবে এক মাস

বোয়ালখালী প্রতিনিধি:: রাত পোহালেই বিদ্যুৎ ফিরবে—এই আশায় বোয়ালখালীর মানুষ রাত জেগেছিলেন। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও স্বস্তি মেলেনি।

গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর টানা প্রায় ১৮ ঘণ্টা অন্ধকারে কাটে উপজেলার বাসিন্দাদের। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় সরবরাহ চালু হলেও দুই ঘণ্টা পরপর মাত্র আধা ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ মিলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

‘সারারাত গরমে ছটফট করেছি’

পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা মো. হোসেন আলী বলেন, বলা-কওয়া ছাড়াই হঠাৎ রাত ১২টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। সারারাত গরমে ছটফট করে কাটিয়েছেন তিনি, ভোরে পুকুরে নেমে শরীর ঠাণ্ডা করতে হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্তও স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ পাননি বলে জানান তিনি।

কধুরখীল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী মো. মোকতেয়ার উদ্দিনের এক মাস বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে শিশুটিকে নিয়ে সারারাত জেগে থাকতে হয়েছে তাকে—কখনো ঘাম মুছিয়ে, কখনো হাতপাখায় বাতাস করে। সকালে বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানও খুলতে পারেননি তিনি।

শাকপুরার বাসিন্দা শিমুল দে বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া এখন এক মুহূর্ত চলাও কঠিন। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা, যাতে একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হলে দ্রুত আরেকটি দিয়ে সরবরাহ চালু করা যায়।

মোবাইল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ না থাকায়। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায়ও অসহনীয় গরমে পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

কারণ একটি বিকল ট্রান্সফরমার

জানা গেছে, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন টিকে সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারটি পুনরায় চালু করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে বলে পিজিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টিকে সাবস্টেশন থেকে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মাধ্যমে বোয়ালখালী উপজেলার প্রায় এক লাখ গ্রাহককে দুটি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় সরবরাহ চালু করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল হওয়ায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।

পিজিসিবি সূত্র জানায়, টিকে কেমিক্যালের বকেয়া টাকা এবং কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে গ্রিডের দুটি ফিডার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি।

পরিদর্শনে সংসদ সদস্য, নির্দেশনা দ্রুত সমাধানের

সাবস্টেশনে ত্রুটির খবর পেয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, পিজিসিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার শ ম মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের কাজ তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এক মাসের দুশ্চিন্তায় লাখো গ্রাহক

তবে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে—এমন খবরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বোয়ালখালীর প্রায় এক লাখ গ্রাহকের মধ্যে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি এই বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনে আরও ভোগান্তি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।