বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

বুধবার

২৬ আগস্ট ২০২৬

১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে তছনছ নেপাল, নিহত ৯৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ধস ও তুষারধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) আকস্মিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে গেছে। দুর্যোগের ভয়াবহতা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজেও। সেখানে দেখা যায়, মুহূর্তের মধ্যে পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা, পলি ও পানির বিশাল স্রোত পুরো এলাকা ঢেকে ফেলছে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষকে দৌড়ে পালাতেও দেখা যায়।

নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, রসুয়া ও আশপাশের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে নেপালি নাগরিকের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভোতেকোশি নদীর আশপাশের এলাকা। প্রবল স্রোতে বিভিন্ন স্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্তের তিব্বত অংশ থেকে নেমে আসা পানির ঢলেই আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের প্রাথমিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, একটি বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে পরে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে দুর্গম এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তিব্বতের সীমান্তবর্তী গিরং এলাকাতেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিগাতসে অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা পাহাড়ধস সৃষ্টি হয়ে বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।