শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার

২৮ আগস্ট ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

"মাসে ময়দার দাম বেড়েছে ২০ টাকা, চিনি-তেলেও একই ধারা"

বিশেষ প্রতিনিধি:: নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। গত সপ্তাহে বেড়েছিল আটা-ময়দার দাম, এ সপ্তাহে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে তেল ও চিনি। এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহেও টান পড়ায় কাঙ্ক্ষিত পণ্য কিনতে একাধিক দোকান ঘুরতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

টানা বাড়ছে ময়দার দাম

গত এক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে ময়দার দর। এক মাস আগে যেখানে কেজিপ্রতি ময়দা মিলত ৫৮-৬০ টাকায়, গত শনিবার তা বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭০ টাকায়, আর শুক্রবার তা পৌঁছেছে ৮০ টাকায়।

মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের ডেইলি নিডস দোকানে দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দা এখন ১৬০ টাকা, আগে যা ছিল ১৪০ টাকা। প্যাকেটজাত আটার দামও প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে কেজিতে দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা, এক মাস আগে যা ছিল ৬০ টাকা।

তেল খুঁজতে দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের

বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০ টাকায়, খোলা পাম তেল ১৬৫-১৭০ টাকায়। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো অপরিবর্তিত থাকলেও খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে বলেই সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে আধা লিটার বা এক লিটারের বোতল খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ক্রেতা ফাহিম আহমেদ। তিনি বলেন, কয়েকটি দোকান ঘুরেও ছোট বোতল পাননি, শেষে মার্কেটের ভেতরের একটি বড় দোকান থেকে কিনতে হয়েছে তাকে।

চিনির দামও ঊর্ধ্বমুখী

এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে এখন চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। প্যাকেটজাত চিনির গায়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যও ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের জনতা স্টোরের কর্মচারী জুয়েল আহমেদ জানান, পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরাতেও প্রভাব পড়েছে—৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে ৯০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ডিলাররা, তবু সরবরাহ কম।

ডিম-পেঁয়াজেও ভোগান্তি

গত মাসে ডজনপ্রতি ১২৫-১৩০ টাকায় মেলা ডিম এখন কিনতে হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকায়। পেঁয়াজের দামও বেড়েছে—৪০-৪৫ টাকার পেঁয়াজ এখন ৫৫-৬০ টাকা। গত সপ্তাহের মতোই ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যতিক্রম শুধু সবজি ও কাঁচামরিচ

মুদি পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ব্যতিক্রম কেবল সবজি। ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল, ঝিঙে ও জালি কুমড়ার কেজি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, লাউ-ধুন্দল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা দরে মিলছে। তবে বেগুন-টমেটোর কেজি এখনো ১২০ টাকা। কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতিটি সবজির দাম ১৫-২০ টাকা কম, যেখানে পটল, কাকরোল, লাউ মিলছে ৪০-৪৫ টাকায়।

আমদানির কারণে কমেছে কাঁচামরিচের দামও—গত মাসে যা প্রায় ৪০০ টাকা কেজি ছুঁয়েছিল, শুক্রবার তা খুচরায় বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকায়।

নদ্দার মোড়ল বাজারে সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা গৃহিণী দীপিকা রানী বলেন, সবজি দিয়েই সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি—৪০ টাকায় দুটি পেঁপে ও ৩০ টাকায় আধা কেজি পটল কিনেছেন বলে জানান তিনি।