সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬
৩রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ সুবিধার আওতায় বড় অঙ্কের ঋণখেলাপিরা দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়ন করতে পারবেন। তবে এক হাজার কোটি টাকার কম ঋণখেলাপিরা এ সুবিধা পাবেন না।
সোমবার (৩১ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ সুবিধা নিতে আগ্রহী ঋণগ্রহীতাদের চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তার আওতায় এর আগে যারা সুবিধা নিয়েছেন, তারাও নতুন করে এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সংকটে থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতেই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। মূলত এসব বড় ঋণগ্রহীতাকে পুনরায় ব্যবসা সচল করার সুযোগ দিতেই নতুন নীতি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালেও ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর কমপক্ষে ২ শতাংশ নগদ অর্থ জমা দিয়ে ঋণ নিয়মিত করা যাবে। সেক্ষেত্রে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধে ১০ বছর সময় দেওয়া হয়েছিল।
তবে কোনো ঋণ আগে তিনবার বা তার বেশি পুনঃতফসিল করা হয়ে থাকলে অতিরিক্ত ১ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত ছিল। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার ক্ষতির পরিমাণ এবং প্রতিষ্ঠানটির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
আগের ওই বিশেষ সুবিধার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা আগে বিশেষ সুবিধার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের পুনঃতফসিলের মেয়াদ নতুন করে নির্ধারিত ১৫ বছরের মেয়াদ থেকে বাদ দিতে হবে।