শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু—এ ধরনের পরিচয়ের চেয়ে সবাইকে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে ভাবতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় যেন বিভেদ-বৈষম্যের কারণ না হয়, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। কারণ ইউরোপ বা আমেরিকা সফরে গেলে বাংলাদেশিরা সবাই কথিত সংখ্যালঘু হয়ে যান।

তিনি বলেন, “অতএব সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদের বাংলাদেশি ভাবি।”

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ-বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়। দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ গুরুত্বপূর্ণ। সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয়—‘আমরা বাংলাদেশি’।

বাংলাদেশে আবহমানকাল ধরে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ-বিরোধ জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যেন বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যেন সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি।

এই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।

কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে নাগরিকেরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র-সরকার ও নাগরিকদের পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলাপের মাধ্যমে সবার কাঙ্ক্ষিত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে উঠবে। এই রাষ্ট্র ও সমাজে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার-আমার-আমাদের সবার অধিকার সমান।”

নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।”

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সব ধর্মীয় উৎসব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভ জন্মাষ্টমী এবং আগাম শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান তিনি।