বৃহস্পতিবার
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পুলিশের কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত অপরাধের পরিসংখ্যান ও জেলাভিত্তিক সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণ করেই এ মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের মাসিক পরিসংখ্যান পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। আগের বছরের পরিসংখ্যানের সঙ্গে এসব তথ্য তুলনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। সংখ্যা দিয়ে আমরা তা দেখিয়েছি। এটি আমাদের সরকারি সূত্র। আপনারা চাইলে যাচাই করতে পারেন।”
অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের বিরোধ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারও কাছে ভিন্ন কোনো পরিসংখ্যান থাকলে তা পুলিশকে দিতে হবে। পরে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হবে।
শিশু নিখোঁজের ঘটনায় প্রায় ১৫ হাজার জিডি হয়েছে এবং আগের সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তথ্যটির সূত্র জানতে চান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সেই কাগজটা আমাদের দেন, তথ্যটা আমরা যাচাই করে দেখি। আমাদের সূত্র এটা নয়।”
তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিটি জেলা থেকে মাসিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংকলন করে সারাদেশের অপরাধচিত্র তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত তা পর্যালোচনা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি কথা বলব ডাটাভিত্তিক, প্রমাণভিত্তিক, আমাদের পুলিশের রেকর্ডভিত্তিক। সে ডাটাটা আপনারা যাচাই করতে পারবেন।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কতটা সন্তুষ্ট—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির চিত্রে সরকার সন্তুষ্ট। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে সময় লাগবে।
সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে মালামাল জব্দ করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
ছিনতাইকারীরা এখনো সক্রিয়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে নোটিশ দিয়ে অপরাধ সংঘটিত হয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ছিনতাইয়ের প্রবণতা এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে থাকা কিছু সদস্য সরকারকে বিব্রত করতে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গোপনে বাধা দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সেখান থেকেও এ ধরনের বিষয় শনাক্ত করা হয়। সাংবাদিকদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই। আমরা দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারব।”