শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

স্বস্তি নেই ডিম-মুরগির বাজারে, কমেছে কয়েক সবজির দাম

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়ায় পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে, জালি ও পেঁপেসহ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। তবে বেগুন, টমেটো ও শিমের দাম এখনো চড়া। একই সঙ্গে ডিম, মুরগি, মাছ ও মাংসের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি।

সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করার পর রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলক্ষেত কাপ্তান বাজার, রায়সাহেব বাজার, বাবুবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। প্রতি কেজি পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকায়। এ ছাড়া পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা এবং লাউ ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা মিলছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি, প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনো বেশ চড়া। বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামের সবজির মধ্যে রয়েছে শিম। বাজারভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

সরবরাহ বাড়ায় কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, সরকার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পর রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

খিলক্ষেতের বাসিন্দা মো. রহিম বলেন, ‘সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। কিন্তু আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের আয় তো বাড়েনি। এমনিতেই সংসারে সব সময় চাপ থাকে। কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু তেলের দাম আর কমে না।’

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ-মাংসের বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও আগের মতোই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায়।

মাছের বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের দাম আকারভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি। চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি।