শনিবার
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলেই কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর। নিজ বাড়ির পাশেই শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ। যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া আর রাস্তাঘাট তাঁর চেনা, সেই শহরই এখন ব্যস্ত তাঁকে ঘিরে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ।
আগামী রোববার ও সোমবার (৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর) সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে থাকবেন রাষ্ট্রপতি। তাঁকে বরণ করে নিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, চলছে আলোকসজ্জার কাজ। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন পৌরসভার কর্মীরা। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ শেকড়ে তাঁর এই প্রথম সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। কারও কাছে তিনি জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, আবার ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি এখনো পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’—নিজ শহরের আপনজন। ফলে তাঁর এই সফরকে ঘিরে গর্ব, আনন্দ ও আবেগের আবহ তৈরি হয়েছে পুরো জেলায়।
সফরসূচি
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।
সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। পরে শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।
কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি শহরের কালীবাড়িতে তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। পরে নিজ বাসভবনে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে সার্কিট হাউসে যাবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। তাঁর সফরকে ঘিরে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার কাজ চলছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর যাতায়াতের পথ, কর্মসূচির স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।