বুধবার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে ইরানের আক্রমণের জবাবে তেহরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন রূপ নিয়েছে এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে বেশ কিছুটা বেড়েছে।
মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি তেলবাহী জাহাজ এবং প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা আরও একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি, এই জাহাজগুলো আইআরজিসির অর্থায়নে ব্যবহৃত একটি শক্তিশালী ‘ছায়া নেটওয়ার্কের’ অংশ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা চালালে প্রতিবারই তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।”
জর্ডানে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে।
এর পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর ক্রুদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব
পাল্টাপাল্টি এই হামলার জেরে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪১ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪.৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্য ঘটনাপ্রবাহ:
সৌদিতে হুথিদের হামলা: ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং তেল স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মার্কিন ড্রোন জব্দ: হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন ড্রোন জব্দের দাবি করেছে ইরান। তবে মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ড্রোনটি পুরোনো মডেলের এবং এটি আগে থেকেই বিকল অবস্থায় ছিল।
গত প্রায় ছয় মাস ধরে চলে আসা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান দ্বন্দ্বের মধ্যে এই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।