বুধবার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিলে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই-হট্টগোল করে প্রতিবাদ জানান, যাতে কিছু সময়ের জন্য সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রুমিনকে উদ্দেশ করে গালাগাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে। একাদশ সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন রুমিন; এবার তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।
বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন বলেন, প্রতিটি সরকারের একটি চরিত্র থাকে—বিএনপি ক্ষমতায় এসে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না বা সারের সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। তাঁর বক্তব্যে বিএনপি সদস্যরা হইচই শুরু করলে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন—এসবও বিএনপির শাসনামলে অনিবার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি, যার পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন।
হট্টগোলের মধ্যে রুমিন সংসদকে “অসহিষ্ণু” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আওয়ামী লীগ আমলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, বরং তার চেয়েও খারাপ আচরণ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সংসদের বেশির ভাগ সদস্য ঋণখেলাপি এবং নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিট করে নাম কাটানো পুরোনো সংস্কৃতি।
নির্ধারিত সময় শেষে মাইক বন্ধ হয়ে গেলেও রুমিন মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন এবং অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করতে থাকেন। স্পিকারের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। মাইক ছাড়া তাঁকে বলতে শোনা যায়, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না। মধ্যে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, একজন সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার স্বাধীনতা আছে এবং অন্য সদস্যদের বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, চিফ হুইপ হিসেবে হাউসের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাঁরই। কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে চেয়ার থেকে তা এক্সপাঞ্জ (বাদ) করা হবে, কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার রুলিং দিতে পারেন বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জবাব দিতে পারেন। তিনি রুমিনের বক্তব্য বোধগম্য না হওয়ার বিষয়েও মন্তব্য করেন।
জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁরা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান, কিন্তু নিজেরা সমস্যা তৈরি করলে তা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাজনীতি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় সদস্যদের নিজেদেরও দৃষ্টি রাখা দরকার, কারণ কয়েক দিন আগেই রুমিন বিএনপির পক্ষে কথা বলেছিলেন।
পরে বিলের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা চলে আসাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
শেষে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।