মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

তেলের দাম বাড়তেই বাড়তি ভাড়া, চড়ছে বাজার

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: পাঁচ মাসের ব্যবধানে আবারও জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর থেকেই পরিবহন ভাড়া ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারেও। ফলে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে নতুন দরে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে গত এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর সরকারিভাবে বাসভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত না এলেও রাজধানী ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটে ৫ থেকে ২০ টাকা এবং দূরপাল্লার বাসে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্য, বাড়তি দামে জ্বালানি কিনে আগের ভাড়ায় বাস চালালে লোকসান গুনতে হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবহন মালিকেরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এক নেতার দাবি, শুধু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি বাসের প্রতি ট্রিপে খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা বেড়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহনেও। সবজি আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, পঞ্চগড়, খুলনা, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনের ট্রাকভাড়া এক রাতেই ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রায়েরবাজারের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, পরিবহন ব্যয় বাড়ার চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই বহন করতে হবে। এতে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

স্থলবন্দরগুলোতেও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রাকভাড়া ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জও প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বাধ্য হয়ে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জ্বালানির দাম না বাড়ালে টিকা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারত।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকার সময় দেশে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন সংগঠন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এ সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয় আরও বাড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে সামগ্রিক বাজারদরে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।