মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

‘অকারণে যোগ্য ভিসি অপসারণ মেনে নেব না’, চুয়েটে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাস জুড়ে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ আন্দোলন মঙ্গলবারও অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে চুয়েটের মূল ফটক ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি দুপুরে একই দাবিতে উপাচার্য ভবনের সামনে শিক্ষক সমিতি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

শিক্ষার্থীদের লাগাতার এ আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার চুয়েটে কোনো ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়নি।

এর আগে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত সোমবার তাঁকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যেখানে ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং সেখানে লিখে দেন—“এই তালা শুধুমাত্র সায়েম স্যার খুলতে পারবে।”

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে চুয়েটের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে “দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই”, “ভিসির চেয়ার কারে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যার অত্যন্ত যোগ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব মানুষ। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই উনাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি একটাই, তাঁকে স্বস্থানে পুনর্বহাল করতে হবে।”

সার্বিক পরিস্থিতিতে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না ফেরায় কোনো অ্যাকাডেমিক কাজ সম্ভব হয়নি।

পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমও পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও তিনি জানান।