মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’—নতুন স্লোগান মেয়রের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নগরবাসীকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং জ্বর হলে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের গোলচত্বরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনাকালে এই আহ্বান জানান মেয়র।

চসিকের এই ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় চমেক এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করতে বিতরণ করা হয় সচেতনতামূলক লিফলেট।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

বিশেষ করে জ্বর তিন দিন স্থায়ী হলে ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। তাই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবার দায়িত্ব।

মেয়র বলেন, ‘আগের কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরে চট্টগ্রামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে আমরা চাই না ডেঙ্গুতে একজন মানুষও মারা যাক। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের করণীয় সম্পর্কে মেয়র বলেন, জ্বর হলে পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং বিশ্রামে থাকতে হবে। শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। শরীরে র‍্যাশ দেখা দেওয়া, রক্তপাত, পায়খানা বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি চসিকের মেমন মাতৃসদন হাসপাতালেও ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নগরবাসীকেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

মেয়র জানান, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিন মাসব্যাপী পরিকল্পনা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কাজ করা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারক করছেন।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এ জন্য বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রী, যেখানে পানি জমতে পারে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন—এই অভ্যাস আমাদের প্রত্যেককে গড়ে তুলতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।’

চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব এলাকায় বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত বিটিআই ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।