শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুক্রবার

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ: নজিরবিহীন ওয়াকআউট, ভূয়সী প্রশংসা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন ও চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ফিলিস্তিনের আনুষ্ঠানিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বহু দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা একযোগে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন।

এ সময় খালি হয়ে যাওয়া হল রুমের একাংশ থেকে নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে তীব্র ভুয়া বা দুয়ো ধ্বনি দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল তাদের স্থানে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়।

তীব্র শোরগোলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অধিবেশনের সভাপতিকে একাধিকবার মাইকে শান্ত থাকার আকুল আবেদন জানাতে হয়। ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতানিয়াহু তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

জাতিসংঘের বাইরে তীব্র বিক্ষোভ:

শুধু ভেতরেই নয়, জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে ফার্স্ট অ্যাভিনিউতেও প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তারা ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন’ এবং ‘গাজা ও ইরানকে বাঁচতে দিন’ সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

পরবর্তীতে নিউইয়র্ক পুলিশ সেখান থেকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘস্থায়ী গাজা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা জাতিসংঘের এই অধিবেশনে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেল।

ভাষণে ট্রাম্পের প্রশংসা ও ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা:

যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত এই সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর নির্ধারিত কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তবুও ভাষণে ট্রাম্পের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে নেতানিয়াহু তাঁকে ‘ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অংশীদার’ বলে অবিহিত করেন।

অপরদিকে, সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নীতির সমালোচনা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ঐতিহ্যবাহী মিত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন নেতানিয়াহু।

দেশ দুটির রাষ্ট্রপ্রধানদের ‘ইহুদিবিদ্বেষীদের কাছে নতিস্বীকারের’ দায়ে অভিযুক্ত করেন তিনি। এছাড়া ইরানকে ‘খুনে স্বৈরশাসন’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, খুব শিগগিরই সেখানে চলমান নেতৃত্বের পতন ঘটবে।