বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

বুধবার

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস: শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ৩৫% মাধ্যমিক ছাত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশিশুদের সামগ্রিক অবস্থান পর্যালোচনা করলে একদিকে যেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির চিত্র দেখা যায়, অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের বিপুল হারে ঝরে পড়ার চিত্র নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপ ও উপবৃত্তি কার্যক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে প্রায় সমতা অর্জিত হয়েছে। তবে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর আর শিক্ষাজীবন ধরে রাখতে পারছে না বহু কন্যাশিশু।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০.৬৩ শতাংশ। সেখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার আরও আশঙ্কাজনক—প্রায় ৩৪.৮৭ শতাংশ।

অর্থাৎ প্রাথমিকে ভর্তি ও অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও মাধ্যমিক স্তরে গিয়ে মেয়েদের একটি বড় অংশ হঠাৎই শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, ঝরে পড়া নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশই বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; তাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কন্যাশিশুর শিক্ষা কোনো একক ব্যক্তির অর্জন নয়, বরং একটি সুস্থ পরিবার, সচেতন সমাজ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার মূল ভিত্তি। তাই কন্যাশিশুদের শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখা, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইনি প্রয়োগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা।