বুধবার
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ লক্ষ্যে বয়স্ক ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
আগামীকাল ১ অক্টোবর ‘৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। এই দীর্ঘায়ু যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি প্রবীণদের দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তা ব্যবস্থাপনাকে সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের অবদান অনস্বীকার্য। সরকার তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সচেতন ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।”
দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক সংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করছে। ইতোমধ্যে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবীণদের আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে।
প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ। তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বজায় রাখা জরুরি। আমাদের আবহমান কালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ যত ধরে রাখা যাবে, প্রবীণদের মর্যাদা তত সুরক্ষিত থাকবে।”
বাণীর শেষ অংশে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে তরুণ থেকে প্রবীণ—প্রতিটি নাগরিক তাঁদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সম্মানজনক ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।