রবিবার
০৪ অক্টোবর ২০২৬
২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ঢাকার আদাবর থানার গার্মেন্টকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান।
এর আগে জনগণের ‘ভোট ছাড়াই’ নির্বাচন সম্পন্ন করা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিএনপির করা মামলায় গত বছরের ২৫ জুন হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান সাবেক এই সিইসি। এরপর জামিননামা দাখিলের মাধ্যমে কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
এর মধ্যেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর রুবেল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ টিপু সুলতান তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত রোববার শুনানির দিন ধার্য করেন।
রোববার শুনানির জন্য হাবিবুল আউয়ালকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে তার পক্ষে আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন জানান।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
হাবিবুল আউয়ালের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল এবং ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। জামিননামা জমা দেওয়ার পর রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। আদালত আজ এ বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন।
যেভাবে হত্যা করা হয় রুবেলকে
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিনে রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা ঢাকার আদাবরের রিং রোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করেন।
এ সময় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হন।
পরে তাকে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।