সোমবার
০৫ অক্টোবর ২০২৬
২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরে আয়োজিত ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো জরুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পূর্বপ্রস্তুতি ও দক্ষতার ওপরই যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তা নির্ভর করে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কর্তব্যে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অব্যবস্থাপনা দূর করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এই নাজুক অবস্থার রাতারাতি উন্নতি সম্ভব নয়; এর জন্য সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে।
অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বছরের পর বছর ধরে চলা নেতিবাচক প্রবণতার কারণে এখানকার অনেক কর্মী অলস হয়ে গিয়েছিলেন।
অতীতে অনেকেই সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, যাদের অনেকেই পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারেন না। তবে সরকার এই পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি করতে বদ্ধপরিকর।”
যাত্রীদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরির দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে লাগেজ কাটার মতো ঘটনা আর ঘটছে বলে আমার মনে হয় না। এই অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তারপরও অতীতে বা সম্প্রতি দু-একটি ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা সেগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
বিমানবন্দরের কর্মচারীদের স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত থাকা ও আটকের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বিষয়টিকে ‘সুখবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, “আগে স্বর্ণ পাচারকারীরা অনায়াসেই কোনো বাধা ছাড়া বিমানবন্দর দিয়ে পার পেয়ে যেত। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলেছে। আমাদের কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পাচারকারীরা ধরা পড়ছে। যারা চোরাচালানে জড়িত, তাদের এখন আর না ধরা পড়ে পালানোর কোনো উপায় নেই। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।”