সোমবার
০৫ অক্টোবর ২০২৬
২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: শহরাঞ্চলে মানুষের অতিরিক্ত চাপ কমাতে গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ বসবাস করছে। ফলে শহরগুলোতে জনসংখ্যার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ চাপ কমাতে রাজধানী ও বড় শহরগুলোর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, শহরের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমাতে গ্রামেও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে সারা দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি ঢাকার আশপাশে ‘সেকেন্ডারি টাউনশিপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে নিরাপদ, মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসন গড়ে তোলা জরুরি। সবার জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মৌলিক সেবাসংবলিত বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে জোর
বাসযোগ্য আবাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে বলে জানান তিনি।
আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি অংশগ্রহণের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে কঠিন। এ ক্ষেত্রে আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের সামনে বাস্তবতায় পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন, বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন।