বুধবার
০৭ অক্টোবর ২০২৬
২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


ক্রীড়া প্রতিবেদক: বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির ২১ বছরের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। ম্যাচ শেষে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন ফুটবলের এই মহাতারকা।
অগণিত স্মৃতি, শিরোপা, ব্যর্থতা, সংগ্রাম ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করে জাতীয় দলকে বিদায় জানান মেসি। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
মেসি বলেন, “আজ কিছু বলাটা কঠিন। এত আবেগ, এত কিছু একসঙ্গে মাথায় ঘুরছে। সবার আগে আমার বাবার কথা মনে পড়ছে।”
দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সি পরার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “২০ বছরেরও বেশি সময় এই জার্সি পরতে পারা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। সবচেয়ে কঠিন সময়েও আমি কখনো লড়াই থামাইনি বা দলের পাশে থাকা বন্ধ করিনি।”
জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসি জানান, তার জন্য এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপের কঠিন অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি সারাজীবন এখানে থাকতে চাই। কিন্তু এটাই সঠিক সময়।”
জাতীয় দলের বাইরে থাকা যে তার জন্য সহজ হবে না, সেটিও জানান মেসি। তিনি বলেন, “ফিরে না আসাটা অনেক কষ্টের হবে। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর বিষয়।”
নিজের শৈশবের স্বপ্ন পূরণে সতীর্থদের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, “তারা আমাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে। আমার পাশে এমন কিছু যোদ্ধা ছিল, যারা নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়ত।”
দেশের মানুষের ভালোবাসার কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেন মেসি। বিশ্বের যেখানেই তারা খেলেছেন, সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাদের সবসময় ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতি দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ের পর একই মাঠে খেলার স্মৃতিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম আনন্দের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন মেসি। তবে বিদায়ের দিনটিকে আখ্যা দেন সবচেয়ে দুঃখের দিন হিসেবে।
তবে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেও আর্জেন্টিনার প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে মেসি বলেন, এখন থেকে তিনি গ্যালারিতে বসে দলকে সমর্থন করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মেসি বলেন, “কঠিন সময়ে আমাদের তাদের পাশে আরও বেশি করে দাঁড়াতে হবে। আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন যেকোনো বাধা পেরিয়ে যেতে পারি।”
সবশেষে আবেগ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে মেসি বলেন, “আমি আজ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কথা বলছি। আমি যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছাড়তে চাই না… আমি ঈশ্বরের কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ যে আমি একজন আর্জেন্টাইন। আপনাদের সবাইকে আমি ভালোবাসি।”
মেসির এই বিদায়ে একদিকে যেমন শেষ হলো আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা, অন্যদিকে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে সৃষ্টি হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন বিদায়ী মুহূর্ত।