শুক্রবার
০৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ আখ্যা দেওয়াকে অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নির্দিষ্ট মেয়াদে এ চুক্তি করা হয়েছে। মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ চাইলে চুক্তি নবায়ন করতে পারবে, অন্যথায় এর অবসান ঘটাতে পারবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই সরকার এ চুক্তি করেছে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির সমালোচনা করে একে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা সস্তা ও অমূলক বক্তব্য।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি সই হয়। চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
চুক্তির ফলে বন্দরের কর্মীদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নাকচ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে বর্তমানে বন্দরে কর্মরত কারও কর্মচ্যুতি হবে না। বরং দক্ষতা বাড়লে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য সুবিধার কারণে দেশটি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেছে।
তবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকেরা ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবেন বলে সরকার আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি এর পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন নতুন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। নগর ও নগরের বাইরের বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। শীত মৌসুম থেকে এসব কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সড়কগুলোর উন্নয়নে বড় প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে, যাতে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা যায়।
সিলেটের পানি সংকট সমাধানে সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত উত্তোলনের পরিবর্তে সুরমা, কুশিয়ারা ও চেঙ্গেরখাল থেকে পানি সংগ্রহ করে পরিশোধনের মাধ্যমে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনে কর্মরত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের আবাসন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বতন্ত্র আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তাঁরা স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।
এ ছাড়া চা-বাগান এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘাটতি পূরণে সরকারি উদ্যোগে স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি নির্বাচনি আসনের মধ্যেই ১২টি চা-বাগান রয়েছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য দেশের অন্যতম শক্তি। সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।