রবিবার
১১ অক্টোবর ২০২৬
২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আদলে দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য মারুবেনি করপোরেশনকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে দেশে বিনিয়োগের অনুকূল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও মারুবেনি করপোরেশনের দীর্ঘদিনের পাটজাত পণ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ঐতিহ্যবাহী খাতের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন শিল্প খাতেও এই অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। জবাবে মারুবেনির সিইও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
১২ মাসের মধ্যে এআই ডেটা সেন্টারের পরিকল্পনা
বৈঠকে প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা। আগামী ১২ মাসের মধ্যে এ ধরনের একটি ডেটা সেন্টার চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ প্রকল্পে মারুবেনি করপোরেশন আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করা তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ করে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করে। এর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
দ্বিতীয় কাফকো স্থাপনের সম্ভাবনা
শিল্প ও জ্বালানি খাতের আলোচনায় চট্টগ্রামের কাফকোতে মারুবেনি করপোরেশনের বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান সারের চাহিদা মেটাতে কাফকোর আদলে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মারুবেনি করপোরেশন ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।
মারুবেনি করপোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু ওয়াকামোরি এবং বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারাসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।