রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার

১৮ অক্টোবর ২০২৬

২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

চট্টগ্রামে মহাসপ্তমীর দ্বিতীয় দিনেও পূজামণ্ডপে ভক্তদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। তিথির বিশেষ বিন্যাসে এবার মহাসপ্তমী দুই দিন হওয়ায় রোববার (১৮ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছে।

সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের সমাগম দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রতিমা দর্শন, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি ও প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। ঢাকের তালে আরতি আর শঙ্খধ্বনিতে মণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

মহাসপ্তমীর প্রথম দিন সকালে নবপত্রিকা স্নান ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার প্রধান আনুষ্ঠানিকতা। কলাগাছসহ নয়টি উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি নবপত্রিকা বা ‘কলাবউ’কে শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী নদী কিংবা জলাশয়ে স্নান করানোর পর নতুন শাড়ি পরিয়ে পূজামণ্ডপে স্থাপন করা হয়।

এরপর মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা, সপ্তমীবিহিত পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। দেবীকে ষোড়শোপচারে পূজা দেওয়ার পাশাপাশি ভক্তরা ফুল ও বেলপাতা দিয়ে পুষ্পাঞ্জলি দেন। সন্ধ্যায় ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খধ্বনির সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর আরতি।

দ্বিতীয় দিনেও পঞ্জিকা অনুযায়ী সপ্তমী তিথির আনুষ্ঠানিকতা অব্যাহত রয়েছে। এদিন দেবীর নিত্যপূজা, শ্রীশ্রীচণ্ডীপাঠ, ভোগ নিবেদন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আরতির মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচার পালন করছেন পুরোহিত ও ভক্তরা।

নগরীর একটি পূজামণ্ডপের পুরোহিত অমল চক্রবর্তী বলেন, মহাসপ্তমী দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন নবপত্রিকা স্নান ও স্থাপনসহ বিভিন্ন শাস্ত্রীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করা হয়।

ভক্তরা দেবীর কাছে অঞ্জলি দিয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল কামনা করেন। পূজার মূল তাৎপর্য হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সবাই আনন্দের সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন করছেন।

এদিকে দুর্গোৎসব ঘিরে নগরীর পূজামণ্ডপ গুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, পূজামণ্ডপ গুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফর করবেন। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।