রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার

১৮ অক্টোবর ২০২৬

২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

কাতারে গ্রেপ্তার শেখ আব্দুল হান্নান, দেশে দুদকের দুই মামলা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলার আসামি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম  তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন। তবে কবে, কীভাবে এবং কোন কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।

গ্রেপ্তারের খবর দুদক কীভাবে পেয়েছে, জানতে চাইলে আকতারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে এখনো নেই। দুদক সচিব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানাবেন।

শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দুটি করেন।

দুদকের অনুসন্ধানে শেখ আব্দুল হান্নানের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেন সাবেক এই বিমান বাহিনী প্রধান। সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।

অন্য মামলায় তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া তাঁর নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্বামীর সহায়তায় এসব সম্পদ অর্জন করেছেন তাহমিদা। এ মামলায় শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে শেখ আব্দুল হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কানাডায় তাঁর সন্তানদের নামেও বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছিল সংস্থাটি। এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য মামলার তদন্তে যাচাই করার কথা জানানো হয়।

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যে ২০২৫ সালের ৫ মে শেখ আব্দুল হান্নান, তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। পরদিন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত।

ওই বছরের ২৪ মে হান্নান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর হান্নানের সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ গোপন করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কেনা হয়েছিল।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন আদালত। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর হান্নানের নামে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান। একই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

তবে শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে তাঁর দায় নির্ধারিত হবে।