মঙ্গলবার
২০ অক্টোবর ২০২৬
৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন কোনো সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে নগরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ-উৎসাহ বিরাজ করছে।
তাঁকে স্বাগত জানাতে চলছে নানা প্রস্তুতি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নগরজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরের রহমতগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে তাঁর।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
ঐতিহাসিক গুরুত্বে জেএম সেন হল
জেএম সেন হল শুধু দুর্গাপূজার মণ্ডপ নয়, চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় স্বাধীনতাকামী মানুষের সভা-সমাবেশ, মতবিনিময় এবং শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে হলটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
আইনজীবী যাত্রামোহন সেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর ছেলে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত হলটির নামকরণ করেন। ১৯১৪ সালে যাত্রামোহন সেন হল নির্মাণের জন্য জমি ও তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। ১৯১৬ সালের ১৯ নভেম্বর হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ১৯২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
হলটিতে বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, মহিমচন্দ্র দাস ও নেলী সেনগুপ্তার আবক্ষ মূর্তি রয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসহ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করছে এই স্থাপনা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী আসছেন। এ খবরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তাঁরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চলছে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সার্কিট হাউস থেকে কাজীর দেউড়ি, আসকারদীঘি, জামালখান ও চেরাগী মোড় হয়ে জেএম সেন হল পর্যন্ত সড়কে কার্পেটিং, খানাখন্দ মেরামত, সড়ক বিভাজকে রং, ফুলের চারা রোপণ ও আলোকসজ্জার কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি।
চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, এ উপলক্ষে ২০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন, মোবাইল টহল, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে ঐতিহাসিক জেএম সেন হল ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।