মঙ্গলবার
২০ অক্টোবর ২০২৬
৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


বিনোদন ডেস্ক:: ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। বড় পর্দায় নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে তৈরি করেছেন আলাদা পরিচিতি। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে তাঁর খ্যাতি ও কাজের ব্যস্ততা, তবে পেছনে ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি আজও তাঁর কাছে বিশেষ।
অপু বিশ্বাসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বগুড়ায়। মা-বাবা, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে বড় পরিবারের মধ্যে কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। পরে সিনেমার জগতে পা রেখে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ঢালিউডে। একসময় দর্শকের কাছে পরিচিতি পান ‘ঢালিউড কুইন’ হিসেবে। তবে তারকাখ্যাতি আর ব্যস্ততার মাঝেও বগুড়ার সেই দিনগুলোর স্মৃতি ভোলেননি তিনি।
দুর্গাপূজা এলেই শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে যান অপু। নতুন জামা পরে সকালে প্রতিমা দেখতে যাওয়া, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো আর বাড়ি ফিরে মায়ের হাতের রান্না উপভোগ করা, সব মিলিয়ে ছোটবেলার পূজা ছিল তাঁর কাছে অন্য রকম আনন্দের।
পূজার স্মৃতিচারণা করে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘পূজা মানেই আনন্দ। সময়ের সঙ্গে সেই আনন্দ-উদযাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। এখন দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমীর সময়ে বগুড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কী যে এক উচ্ছ্বাস, উল্লাসের ছিল সেই দিনগুলো, তা বলে শেষ করা যাবে না।’
মহাষ্টমীর ভোগের স্মৃতি
শৈশবে বাবা-মা, কাকা-কাকিসহ পরিবারের সবার উপস্থিতিতে উৎসবের দিনগুলো হয়ে উঠত আরও রঙিন। অপুর পূজার স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে মহাষ্টমীর ভোগ। খিচুড়ি, লাবড়া ও বিভিন্ন পদের ভাজা ছিল তাঁর ভীষণ প্রিয়। সবাই মিলে একসঙ্গে বসে ভোগ খাওয়ার মুহূর্তগুলো ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। খাবারের স্বাদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মায়ের স্নেহ আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন সময়।
অভিনয় ও প্রযোজনা
জীবনের নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অপু বিশ্বাস এখন ঢালিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। প্রায় দুই দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন চলচ্চিত্র প্রযোজনায়ও।
‘লাল শাড়ি’ সিনেমার মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ওই ছবিতে তাঁর নায়ক ছিলেন সাইমন সাদিক। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছেন ‘শিকার’ সিনেমায়, যার শুটিং হয়েছে নেপালে।
কাজের ব্যস্ততা ও তারকাখ্যাতির বাইরে দুর্গাপূজা এলে বগুড়ার সেই দিনগুলোই যেন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের উঠোনে, যেখানে পরিবারের ভালোবাসা আর উৎসবের আনন্দ মিশে আছে অমলিন স্মৃতিতে।