বুধবার
২১ অক্টোবর ২০২৬
৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্ম কিংবা বর্ণের পরিচয় নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু রাষ্ট্রের পরিচয়ে সবাই বাংলাদেশি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—যে ধর্মের অনুসারীই হোন না কেন, এ দেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখো মানুষ দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষ, তরুণসহ নানা বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। আহত কিংবা গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর সময় কেউ তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় যে মুখ্য নয়, এসব ঘটনা তার প্রমাণ।
সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের চোখে সব নাগরিক সমান। দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও সুযোগ পাবেন।
নিজের বিদেশে অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও বিদেশে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের চেয়ে একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে চলবেন।
তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা।