শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার

২৪ অক্টোবর ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার প্রসার জরুরি

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: তরুণ প্রজন্মকে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তাঁর মতে, খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার প্রসার জরুরি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

বক্তব্যে অ্যাথলেটিকসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এখানে একজন ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। অ্যাথলেটিকসের ভিত্তি মজবুত হলে অন্যান্য খেলাতেও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা জাতীয় গৌরব ও ঐক্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড়তে দেখা এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজতে শোনা পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তখন সবার একটাই পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি।

দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম খেলোয়াড় গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলাপর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে মাঠ দখলমুক্ত রাখা, বিদ্যমান মাঠ সংরক্ষণ এবং নতুন খেলার মাঠের জন্য উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

খেলাধুলায় নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো প্রতিভা হারিয়ে না যায়, সে জন্য স্কুল, কলেজ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।

পাশাপাশি আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়। বিশ্বমানের খেলোয়াড় গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম আরও বাড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি প্রতিযোগিতাটি উৎসর্গ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়।